মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আপনার কি করা উচিত

 

সিস্টেমের হযবরল ও কিছু কথা।


আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা রয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি না হলে কখনওই একটি দেশ কিংবা জাতি উন্নত হতে পারবেনা। 

আমাদের শেখানো হয় ইতিহাসের কেচ্ছা-কাহিনী এবং তা রীতিমতো গলাদ্ধকরণ করানো হয়। 

কিন্তু আমাদের উচিত ছিলো ইতিহাস থেকে শিক্ষা লাভ করা। তা না করে, কার বাবার নাম কি, কার দাদার নাম কি, কে ভাত খাইছে কবে, কি করছে কবে এগুলো আমাদের মুখস্থ করানো হচ্ছে। এগুলো মুখস্থ করার ফলে, কোনো ধরণের উপকার হচ্ছে কিংবা হবে বলে তো আমার মনে হয়না। 

আর, এসবের ফলে ইতিহাস পড়ার আসল উদ্দেশ্যই আমরা আত্মস্থ করতে পারিনা। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণের জন্য নয় বরং খাতায় উগলানোর জন্য এগুলো জানছে।

কোনো লেখককে, তার বই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সেও কখনো সম্পূর্ণ বলতে পারবেনা। অথচ, একজন পাঠককে কেনো সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ ঠোটস্থ রাখতে হবে?

আমরা এতো এতো পড়াশুনা করি অথচ চাকরি পেতে গেলে জিজ্ঞেস করে এই স্কিল, সেই স্কিল আছে কি না। 

আরে ভাই, সারাটা জীবন তো আমি মরা মানুষের কেচ্চা-কাহিনী মুখস্থ করেই পার করলাম, তো আপনারা এখন এসে অন্য স্কিলস খোঁজেন কেন? 

আর অন্য স্কিলস যদি খুঁজতেই হয়, তাহলে আগে থেকেই তা ডেভেলপ্ড করানো হয়না কেন?

নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত সকলকে ব্যাসিক বিষয়গুলি জানা আবশ্যক। এরপর থেকে তার প্যাশন অনুযায়ী শিক্ষাদান করানো উচিত। তা, না হলে জাতি কখনোই একজন সঠিক দক্ষ ব্যক্তি পাবেনা। আর কোনো বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তি ছাড়া তো সমাজ কিংবা দেশের উন্নতি সম্ভব নয়।

দেখা যায়, অসংখ্য শিক্ষার্থীর ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন সে ডাক্তার হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে কিংবা অন্যকোনো কিছু হবে। এবং সে অনুযায়ী, সে প্রস্তুত হয়ে ওঠে। 

কিন্তু সেই স্বপ্ন মাত্র দু'একঘন্টায়, দু'একটি ভুল করার কারণেই শেষ হয়ে যায়।

অপরদিকে একজন, তার থেকে কম মেধাবী হয়ে, আন্দাজে দু'একটি সঠিক করার কারণে কিংবা একটু গলাদ্ধকরণে এক্সপার্ট হওয়ার কারণে অথবা কোনো বিশেষ পাওয়ারের কারণে তার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়ে যায়। এতো কম্পিটিশের মধ্যে, দু'এক ঘন্টায় কিভাবে কারও যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় তাও বুঝে আসেনা। 

অন্যদিকে, সকলে ভালো করলেও, সকলকে সুযোগ দেয়ার মতো যথেষ্ট পরিমান অ্যাবিলিটি আমাদের নেই। 

এর ফলে হয়তোবা কখনো কখনো সঠিক ব্যক্তিটি সঠিক কাজ করার সুযোগ পায়না। 


শিক্ষাব্যবস্থায়, যে কাজগুলি আমাদের উন্নত করতে সাহায্য করবে, সেগুলো প্রাকটিক্যালি শিখাতে হবে বলে আমি মনে করি, শুধুমাত্র মুখস্থ কিংবা খাতা ভরানোর জন্য নয়। 

যে দেশগুলি উন্নত, তাদের কিছু ট্রিকস রয়েছে। তারা শিশুদেরকে ছোট থেকেই আবিষ্কারের নেশা ধরিয়ে দেয় কিংবা বিজনেস ট্রিকস শেখায়। অনেক কিছু আবিষ্কার করতে গিয়ে, তা হাস্যকর বস্তু হয়ে যায় এবং সেটি কোন কাজে আসেনা। 

তবে, এই প্রাকটিসের ফলে সে একটি সময় অনেক ভালো কিছু আবিষ্কার করে ফেলে। 

বিজনেস স্টাডিজ-এ তাদের উন্নতির মাধ্যম হচ্ছে উপার্জন করা। তাদের তৈরি করা হয় এমনভাবে, সে যদি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ১ ডলার ইনকাম করতে পারে তাহলে নেক্সট শ্রেণীতে উঠতে পারবে। 

গর্ভাবস্থায় মায়েরা বিভিন্ন প্রবলেম সলভ, বই পড়া, আল কুরআন পড়া এবং কিছু খাবারের মাধ্যমে সন্তানের ব্রেইনকে আরও সতেজ করে তোলে। 

আমাদের সমাজ শুধু বোঝে পড়াশোনা করো চাকুরী করো। ভালো চাকুরী না পেলে সে ভালো মানুষ না।

অন্যদের মতো, আমাদের সমাজে এমন কোন সিস্টেম নেই এবং কবে হবে তাও ঠিক নেই। তাই, আমাদের শুধুমাত্র চাকুরির উদ্দেশ্যে পড়াশুনা না করে, বিভিন্ন সোর্স থেকে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। জানতে হবে পৃথিবী টু মহাবিশ্ব। 

তবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে নিজের প্যাশন অনুযায়ী। কারণ, একটি মানুষ কখনোই সব বিষয়ে এক্সপার্ট হতে পারবেনা কিন্তু বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে সব বিষয়ে জানার ক্ষমতা সবাই রাখে। মাথায় সবসময় থাকতে হবে জনার আগ্রহ, এটি কি? এর কাজ কি? জানতে বিভিন্ন সোর্স, বই থেকে কিংবা বর্তমানের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম ইন্টারনেটের শরণাপন্ন হতে হবে। 

আপনাকে এখন থেকে রিস্ক নিতে শিখতে হবে, কোনো কাজে ব্যর্থতা আসতেই পারে। 

অনেক ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, কোনো একটি বিষয়ে অবশ্যই সাকসেস আসবে। 

মুল কথা হচ্ছে, চাকুরির পিছনে না ছুটে, 

যা মন চায়, লাভ-ক্ষতির দিক বিবেচনা না করে, কাজে নামতে হবে। জানতে হবে সব বিষয়ে, দক্ষ হতে হবে অনেক কাজে। 


রাফিউল আহসান